ফাইল : ছবি
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, পররাষ্ট্রনীতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে একটি টেলিভিশন টকশোতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অগ্রদূত সম্পাদক আবু সাঈদ খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী।
আলোচনায় আবু সাঈদ খান বলেন, বড় বাজেটের সঙ্গে বড় প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। তবে বাজেট বাস্তবায়ন, ঘাটতি অর্থায়ন এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ইতিবাচক হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তা এখনো যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ খান বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উচিত কোনো পরাশক্তির দিকে ঝুঁকে না গিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করা। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে আবু সাঈদ খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের যে স্বপ্ন ছিল, তা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। তিনি গণহত্যা, হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে আবু সাঈদ খান বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন। তবে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন তিনি।
অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক খাতকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা। ব্যাংকিং খাতের সংকট, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশের স্বার্থকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজের মূল্যায়নে নুরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, এটি একটি গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তাবে।
টকশোর উপস্থাপক আলোচনার শেষে বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকারকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
